Monday, April 9, 2012

কাল থেকে সুপার লিগ, তবে...



সংশয় অবশ্য রয়েছে, তবু বিসিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীকাল থেকেই যেহেতু আবার  প্রিমিয়ার লিগ শুরু ��১০ এপ্রিল (কাল মঙ্গলবার) থেকে লিগ শুরুর সিদ্ধান্তের পর গতকাল সিসিডিএমও জানিয়ে দিয়েছে বাকি তিন রাউন্ডের ফিকশ্চার। কিন্তু আকাশে মেঘের ঘনঘটা কমেনি। মাঠকর্মীদের অনেক সময় আকাশ দেখে কাজ করতে হয়। লিগ নিয়ে জটিলতায় মাথার ওপর এখন হয়তো অফ সিজনের আকাশ দেখছেন তাঁরাও।
বৃষ্টি শুরু হয়ে যাওয়ায় ক্রিকেটের মৌসুম এমনিতেই শেষ মনে হচ্ছে। তবে আকস্মিক অফ সিজনই নিয়ে এসেছে আসলে প্রিমিয়ার লিগের স্থবিরতা। পরশু জরুরি সভার সিদ্ধান্তের পরও স্থবির লিগ প্রাণ পাবে কি না, সন্দেহ। বড়
দুই দল আবাহনী ও মোহামেডান লিগ না খেলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। রাতে ভিক্টোরিয়া ছাড়া বাকি পাঁচ ক্লাবের এক যৌথ সভায় ওল্ড ডিওএইচএস, গাজী ট্যাংক আর শেখ জামালও যোগ দিয়েছে তাদের সঙ্গে। পাঁচ দলের একই প্রশ্নমোহাম্মদ ইউসুফের নিবন্ধন ত্রুটিপূর্ণ বলেও বিসিবি কেন ভিক্টোরিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে না? ভিক্টোরিয়া ছাড়া আর কোনো ক্লাবের সঙ্গে আলাপ না করে কেন বিদেশি খেলোয়াড়ের নিবন্ধন ৮ জন থেকে ১০ জন করা হলো? এসব ব্যাপারে ব্যাখ্যা চেয়ে আজ পাঁচ ক্লাব মিলে একটি চিঠিও দেবে বিসিবিকে।
তবে দুটি ক্লাবের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিগ না খেলার ইচ্ছাটা মূলত আবাহনী আর মোহামেডানেরই। অন্যরা খেলতে চাইলেও বড় ক্লাবের ইচ্ছায় চলতে হচ্ছে তাদের। ফিকশ্চার অনুযায়ী, কাল ফতুল্লায় আবাহনী-ওল্ড ডিওএইচএস ম্যাচ। ডিওএইচএস নাকি আবাহনীকে বলে দিয়েছে, আজ সন্ধ্যার মধ্যে বোর্ড থেকে লিগ বন্ধের চিঠি না পেলে কাল তারা মাঠে যাবে। একই সিদ্ধান্ত গাজী ট্যাংক ও শেখ জামালেরও।

পাঁচ ক্লাবের সভার আগে আবাহনী ক্রিকেট কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইসমাইল হায়দার মল্লিকও লিগ না খেলার মনোভাব প্রকাশ করেছেন টেলিফোনে, বিসিবি বলেছে, ইউসুফের রেজিস্ট্রেশন ত্রুটিপূর্ণ। সেটা হলে কেন আমাদের ২ পয়েন্ট কেড়ে নেওয়া হবে? ভিক্টোরিয়াকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না কেন! ইউসুফ যদি না খেলেন, তাহলে তো আবাহনীর দাবিই সঠিক। রেজিস্ট্রেশন অবৈধ হলে আগে দোষীদের বিচার হতে হবে। সুপার লিগ প্রয়োজনে জাতীয় লিগের পরে হবে।

ইউসুফের ব্যাপারে জরুরি সভার সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মোহামেডানের ক্রিকেট কমিটির প্রধান খন্দকার জামিলউদ্দিন। আবাহনীর ২ পয়েন্ট কাটার সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইউসুফকে লিগের বাকি ম্যাচগুলোয় খেলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে তাঁর কাছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ইউসুফের রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসবে, ততক্ষণ মোহামেডান খেলবে না। ইউসুফের কাগজপত্র নাকি গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে। আমার সংগঠক জীবনে এর চেয়ে হাস্যকর কথা শুনিনি। খেলাধুলায় গোয়েন্দা দিয়ে তদন্ত, এ রকম কখনো দেখিনি’—বলেছেন খন্দকার জামিল।

অন্য ক্লাবগুলো যেখানে ১০ বিদেশির নিবন্ধনই মানছে না, সেখানে ভিক্টোরিয়া এখনো চাচ্ছে তিনজনের জায়গায় চারজন বিদেশি খেলাতে। ক্লাবের গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান লুৎফর রহমান বলেছেন, বিশেষ কমিটি আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল, চারজন বিদেশি খেলানো যাবে। আমরা তাই চারজন বিদেশি নিয়েও এসেছি। কিন্তু এখন তাঁরা বলছেন, তিনজন খেলানো যাবে! আমরা এ বিষয়ে আজ (গতকাল) আবারও লিখিত আবেদন জানাব বোর্ডের কাছে। লিগ শুরুর সিদ্ধান্ত পেয়ে কাল সভায় বসেছিলেন ভিক্টোরিয়ার কর্মকর্তারা। নতুন করে বোর্ডকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেখানেই। জবাবে বোর্ড কী সিদ্ধান্ত দেয়, সেটা দেখে আজ খেলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে ভিক্টোরিয়া। তবে লুৎফর রহমান বলেছেন, নীতিগতভাবে তাঁরা খেলার পক্ষে।

সিসিডিএমও যেকোনো বাস্তবতার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। আবাহনী-মোহামেডানের না খেলার হুমকিকেও এখন আর গুরুত্ব দিতে রাজি নন প্রিমিয়ার লিগের সমন্বয়ক কাজী আইনুল ইসলাম। কাল সিসিডিএমের সভার পর বলেছেন, কোনো ক্লাব না খেললে আমাদের কিছু করার নেই। বাইলজ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ দল ওয়াকওভার পেয়ে যাবে।

কঠিন চ্যালেঞ্জ। দেখাই যাক, জায়ান্ট কিলার হতে পারে কি না সিসিডিএম।

No comments:

Post a Comment